শরীয়তপুরের ডামুড্যায় মাদক সেবন ও বিক্রি ছেড়ে দিতে বলায় লামিয়া বৃষ্টি (২১) নামে এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী রবিউল ছৈয়ালকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কনেশ্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে লামিয়া বৃষ্টির সঙ্গে রবিউল ছৈয়ালের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে রবিউল মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে দম্পতির মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও পারিবারিক কলহ হতো।
সর্বশেষ এক সপ্তাহ আগে স্বামীকে মাদক সেবন ও বিক্রি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন লামিয়া। মাদক ছাড়তে রাজি না হলে তালাক দেওয়ার কথা জানিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান তিনি।
সোমবার পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার কথা বলে লামিয়াকে স্বামীর বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের উপস্থিতিতে তাদের দাম্পত্য কলহ মেটানোর চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসা হয়েছে মনে করে উপস্থিত লোকজন সেখান থেকে চলে যান।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, লোকজন চলে যাওয়ার পর রবিউল ও লামিয়ার মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে রবিউল স্ত্রীকে বাড়ির পাশের একটি ডোবার কাছে নিয়ে যান। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলায় আঘাত করে ডোবায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে লামিয়ার ছোট ভাই ওবায়দুল মাদবর তাকে খুঁজতে গিয়ে পাশের ডোবায় পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গোসাইরহাট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামছুল আরেফীন বলেন, দাম্পত্য কলহের জেরে রবিউল ছৈয়াল তার স্ত্রীকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউলকে আটক করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
